যমুনা থেকে চেনাব
তারসেম সিং এর The Fall সিনেমাটা আমার দেখা ভিস্যুয়ালি সবচেয়ে সুন্দর সিনেমা। রন ফ্রিক এর Baraka আরও সুন্দর (আমার দেখা শ্রেষ্ঠ সিনেমাটোগ্রাফি) , কিন্তু Baraka তৈরিই করা হয়েছে Visual Tone Poem হিসেবে। রজার এবার্টের কাছে Baraka-র ব্লু-রে রিলিজটা,”the finest video disc I have ever viewed or ever imagined”, যদিও ছবিটার স্পষ্ট কোন ন্যারেটিভ নেই, কোন মূল চরিত্র, এমনকি কোন ধারাভাষ্যও নেই। গডফ্রে রেজ্জিওর Qatsi ট্রিলজির ক্ষেত্রেও একি কথা খাটে। পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র হিসেবে তাই The Fall –কেই আমি এগিয়ে রাখবো।
অসাধারণ দৃশ্যপট, মাথা নষ্ট করা ক্যামেরার কাজ, উজ্জ্বল শিল্প নির্দেশনা আর নিখুঁত কম্পোজিশানে তৈরি করা হয়েছে সিনেমাটা। দুই মিনিট পর পর মারাত্মক সব ‘ওরে খাইসে’ টাইপের ব্যাপার-স্যাপার। সাধু সাবধান, আমি কিন্তু ভিস্যুয়াল ব্যাপার গুলোর কথা বলছি, সিনেমার কাহিনী ব্যক্তিগত ভাবে আমার ভালো লাগে, অনেকের নাও লাগতে পারে।
এই সিনেমা দেখতে গিয়ে প্রথম লাদাখের লেক গুলো দেখি। তখন একবার চাঁদি গরম হয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু ছাত্র অবস্থায় তেমন কামাই না থাকায় সেই গুড়ে এক বস্তা বালি ঢেলে বসে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না। আরেকবার সেই পোকা কিলবিলিয়ে উঠলো থ্রী ইডিয়েটস দেখার পর। আমি হিন্দি সিনেমা দেখি না বললেই হয়, কিন্তু আমির খানের লাগান এর পর থেকে সিনেমা গুলো দেখেছি। ‘রাং দে বাসান্তি’ আমার খুবই পছন্দের ছবি।
থ্রী ইডিয়েটস এর শেষ দৃশ্যটা লাদাখে শুটিং করা। ঐটা দেখার পর থেকে আবার আগের শখ জেগে উঠলো, যাবোই যাবো কাশ্মীর-লাদাখ। খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে যা বুঝলাম, ঐদিকে যেতে হলে ডিসেম্বর থেকে মার্চ একদম হারাম। ভয়াবহ শীত আর তুষার ঝড়ে টুরিস্ট তো দূরের কথা, স্থানীয় মানুষজনই বের হয় না ঘর থেকে। তুষারপাতে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়,অফ সিজন দেখে হোটেল-গেস্ট হাউজ বন্ধ হয়ে যায় আর লেকগুলো যায় জমে। সোজা কথা যেভাবেই হোক নভেম্বরের মধ্যে জার্নি শুরু করতে হবে। তখন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। ধুমধাম অনলাইনে গিয়ে ইন্ডিয়ার ভিসা ফর্ম ফিল-আপ করে জমা দিলাম। এবার মাথায় হাত। বজ্জাতের দল পাসপোর্ট জমা দেবার তারিখই দিয়েছে পনের দিন পরে! আমার আবার ডিসে